সেই সুরের ঝরণা তুমি

 

                     সেই সুরের র্ঝণা তুমি

                      গাব্রিয়েল রাকসাম

মানুষ অস্থিত্বকে টিকিয়ে রাখতে প্রবল সংগ্রাম করে অন্তরে জয়ের স্বপ্ন রচনা করে থাকে। স্বপ্ন দ্রষ্টা মানুষ স্বপ্ন পূরণের জন্য কঠোর সাধনা করে জয় লাভ করে। জয়ের সত্ত¡া থেকে সমাজে সুফল বয়ে আনে। অস্তিত্বের প্রভাবে উদ্ভিদ ফুল-ফল দিয়ে নিরস প্রকৃতিকে মুগ্ধ করে সাজিয়ে ধরণীকে বসবাসের উপযোগী করে তুলে। ঋতুরাজ বসন্ত পক্ষি কুলকে প্রাণিত করতে কোকিল সুমিষ্ট সুরে নিবীড়ভাবে ডেকে উঠে। প্রকৃতির এমন সংযোগ মানব জীবনকে বিচিত্র করে তোলে। বিধাতার এমন পরশে মানব জীবনও সরস হয়ে উঠে। সৃষ্টিকর্তা এভাবেই তাঁর সমস্ত সৃষ্টির উপর মানুষের কল্যাণের জন্য মানুষের মধ্য দিয়েই যুগে যুগে তাঁর সৃষ্টির রহস্য প্রকাশ করেন।


মানুষের কন্ঠে এত গান এত সুর আর এত কথার ধ্বনিত সবই মানুষের মাঝে বিদ্যমান। সংগীতের সুর যেমন মানুষকে আকৃষ্ট করে তুলে তেমনি মানবিকতার সুরে জরাজীর্ণ জীবনকে সবল করে তুলে। অন্তর আত্মার কথার সুর খুলে দেয় স্বর্গ রাজ্যের দ্বার। নিম্মোজি¦ত মনকে করে উদ্বার। জেগে উঠে নব জীবনের প্রকৃত আনন্দ। মানুষের জীবনে কালের প্রেক্ষাপথে এই শূন্যতা বড় আবর্তিত। দৈনন্দিন জীবনে সুস্থ সুন্দর আলোময় জীবন অত্যন্ত ক্ষীণ পরিসর। কারণে অকারণে মানুষের জীবন বড়ই অস্থির। আলোময় জীবন পেতে মানুষের মাঝে বাধাগ্রস্থ। এই কঠিন বাস্তবতায় সুসম্পর্কের অভাব। শুধু চলছে স্বার্থের ভাব। বিচ্ছিন্ন সমাজের মানুষ তার ভিতরে থাকা আনন্দ পরিণত হচ্ছে বিষাদ। দুর্বোধ্যময় জীবন দিনদিন বেড়ে চলছে। সীমাহীন আকাঙ্খায় অতৃপ্তিতে ক্লান্তিতে মানসিক অস্থিরতায় প্রকৃত সুখ হারিয়ে ফেলছে।


দিনের পর দিন মানুষ সুখের গন্তব্যে পৌঁচ্ছানোর জন্য অবিরাম ছুটে চলছে। অন্যদিকে অপরাধের প্রবনতাও বেড়েছে। তাই বিশ^াসের প্রশ্নে বড়ই সম্মুখীন। কাউকে শতভাগ বিশ^াস করা চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে। সুস্থতার পরিবর্তে অসুস্থতার জীবনমান পরিবেশিত হচ্ছে বেশি। মানুষের চেতনার বাতি অন্ধকারে ধাবিত। ঘাত-প্রতিঘাতে পথের অভাবে তৃষিত হৃদয়ে মেকির আধারকে খোঁজে নিচ্ছে। নষ্ট ভ্রষ্টর দিকে আকৃষ্ট। তিলকে তাল করতে ব্যতি ব্যস্ত। রঙেরঙিন করে পণ্যের মত জীবন মান মূল্য নির্ধারণ করছে। বিবেককে আবেগে পরিণত করে আত্মাকে প্রশমিত করার জন্য অবিরাম চেষ্টা চলছে। এ ধারায় আমরা প্রকৃত সুখ, শান্তি ও আনন্দ এবং পারস্পরিক মিল থেকে বঞ্চিত। তাই আমরা নিজেরাই বিধাতাকে সব সময় অন্তর আত্মায় হারায়। অন্তরে সেই মানবিকতার সুরের ধ্বনি মানুষের জীবনে বড়ই ব্যাকুল। এ বৈরিকালে এমন দুঃসসহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তির লক্ষ্যে সুপ্ত ঘুমন্ত আত্মা-মনকে জাগাতে আমাদের তেজমান সৈনিক গড়ে উঠা অতীব দরকার; নয়ত আমাদের সুষম জীবনের অস্তিত্ব নিভে যাবে কালে।


কালেকালে মহীয়সীরা সব সময় আমাদের হৃদয়, মন ও আত্মাকে উজ্জীবিত করেছেন। এমন স্মরণীয় বরণীয় মহীয়সীদের জীবন থেকে দেখতে পায়; কবি কাজী নজরুল ইসলাম জয়ের সংগ্রামে শক্তি দিয়েছিল প্রাণে। তিনি সেই সাহসের সুরের সৈনিক কবি যিনি দীন জীবনেও শৃঙ্কল ভেঙ্গে জয়ের বার্তা দিয়েছিল প্রাণে। বিশ^ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙ্গালি জাতিকে বিশ^ দরবারে সাক্ষ্য রেখেছিলেন তাঁর সাহিত্যে। তিনি শুধু নিজের সত্ত¡াকে শাণিত ও প্রতিষ্ঠিত করেনি। তিনি জাতিকে পথ দেখিয়েছেন। সাধ্বী মাদার তেরেসা তিনি তো মানব সেবার মা। তাঁর সেবার ছবি হৃদয়ে আঁকা। এ নিগূঢ়ত্ব মানুষের মতিষ্কে গাঁথা। তাঁর ঐশ^্য জীবনের সুর ছিলনা বেসুর। স্বর্গীয় মাদার সেবার জন্য জীবন দিয়ে মানুষকে আপন করে নিয়েছেন। তিনি সেবার র্ঝণা ধারার জীবন্ত প্রতীক আর মানুষের জীবনে হয়ে আছেন অ¤øান আত্মীক। কথিত হয় শিল্পী ও বীর যোদ্ধাদের কোন নির্দিষ্ট দেশ কাল বা সীমা রেখা নেই। বংশবা গোষ্ঠীর পরিচয়ে পরিচিত নয়। তারা শুধু মানব মুক্তির আলোতে আলোকিতর পরিচিত হন। বাইবেলেও দেখি শৈৗল তার শৌর্য বীর্য বলকে সাধু পৌলের পান্তর করে ঈশ^রের সুপ্ত দীপ্ত বানীকে ছড়িয়ে দিয়ে পালক বিহীন মানুষকে ঈশ^রের অনুগ্রহের পাত্র করেছেন। শিমন পিতর যীশুর জীবনে পশ্চাতে প্রছন্ন হয়ে জীবনকে পাথর করে স্বর্গ রাজ্যে প্রস্ফুতিত করে তুলেছেন। যীশুর বানীর জন্য ধারক ও বাহক হয়ে মানুষের পরিত্রানের জন্য পরম্পরাগত পুণ্যত্ব ও শিষ্যত্ব অর্জন করেছেন। তাই আমাদের বিশ^াস ঈশ্বরের অনুগ্রহকে লাভ করার জন্য যীশুর শিষ্যের মত কেউ হাত বাড়িয়ে তপ্তহৃদয়ে শান্তির বাণী শুনাবে; ঐশ^্য শীতল র্ঝণার মত বয়ে দিবে এবং অসুস্থ হৃদয় থেকে মুক্তি দেবে।

আমাদের এই প্রজন্মে যেমনি জীবন বিচরণে দ্বার উন্মুক্ত তেমনি পাপ পঙ্কিলতাও চারিদিকে প্রকম্পিত। অন্তর আত্মায় খ্রিষ্টের পুণ্যের বাণীগ্রহণ করার চেয়ে বাহ্যিক রুপের আকর্ষণ বেশি। খিষ্টের সাধন-যাপন জীবনটাও আজ কাল বাহন হয়ে দাঁড়িছে। ব্যক্তি বা পারিবারিক পরিচয়ে পরিচিতির জন্য ব্যতিব্যস্ত। যেখানে শ্রেষ্ঠ হয় নষ্ট। এই বৈরি মনোবাঞ্চার কারনেরও শিষ্যের দীক্ষিত আত্মীকও অনেকটাই বেজে উঠেছে মøানে। এ দুরূহে বিকশিত হোক শিষ্যত্ব, পুণ্যত্ব ও নবায়িত্ব আর প্রজন্মের পুণ্যের সুরে সৈনিক দৃঢ় অঙ্গীকারে জেগে উঠুক। সেই ধারার র্ঝণা অবিরাম অবিচল ভাবে বয়ে আসুক এ মহতি লগ্নে।


 

Culture

Parable of the Forgiving Father

Christianity in Garo Culture

Works of Mercy

MESSAGE OF HIS HOLINESS POPE FRANCIS FOR THE WORLD DAY OF MIGRANTS AND REFUGEES (2014)